মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টি কিংবা আকাশে মেঘ গর্জনের পরপরই হাসপাতালের প্রবেশমুখের রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালের প্রবেশ সড়কের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দীর্ঘদিনেও হয়নি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশু। কিন্তু প্রবেশপথে জলাবদ্ধতার কারণে তাদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে সেবার সামান্য ত্রুটি কিংবা বিনামূল্যে ওষুধ না পাওয়ার ঘটনায় অনেকেই মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে সরব হন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে খুব কম মানুষকেই কথা বলতে দেখা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি একই ধরনের সমস্যা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বা অন্য কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির বাড়ির সামনে হতো, তাহলে হয়তো দ্রুতই সমাধান হয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বাঁশখালীর সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই শুধুমাত্র সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত উদ্যোগে সমস্যাটির সমাধান সম্ভব।
এ সময় তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদেরও বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, হাসপাতালের সেবার মান বা চিকিৎসকদের কোনো ত্রুটি নিয়ে যেমন গণমাধ্যম নিয়মিত অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তেমনি এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সমস্যাটিও গণমাধ্যমের নজরে আসা উচিত। সাংবাদিকরা যদি বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেন, তাহলে দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রবেশ সড়কের জলাবদ্ধতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে প্রতিবার বৃষ্টি হলেই রোগী ও দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
বাঁশখালীবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং হাসপাতালের প্রবেশপথকে নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করে তুলবে।