অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে থানার ওসিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে কালাইনজুড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মিয়া জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় কারাগারে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কফিল উদ্দিন স্থানীয় যুবদল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে হাইকোর্টের আদেশে চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া পুনরায় দায়িত্বে ফিরেন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু হলে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন তাতে বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ জানান, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।