সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুভর্তি একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় মামা ফকির মাজার এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকালে জোরারগঞ্জের মামা ফকির মাজার সংলগ্ন রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় বালুভর্তি মিনি ট্রাকটি আচমকা রেললাইনের ওপর আটকে পড়ে। ঠিক ওই মুহূর্তেই চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর 'পাহাড়িকা এক্সপ্রেস' ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছিল। ট্রেনটিকে ধেয়ে আসতে দেখে ট্রাকের চালক ও হেলপার দ্রুত গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে আত্মরক্ষা করেন।
এরপর দ্রুতগতির ট্রেনটি লাইনে আটকে থাকা ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে আটকে যায় এবং ট্রেনটি প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ট্রাকটিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পর থামে।
আতঙ্কের সেই মুহূর্ত
পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন জানান, "সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। জোরারগঞ্জ এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো ট্রেনের বগিগুলো কেঁপে ওঠে। এতে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনটি থামার পর আমরা নিচে নেমে দেখি একটি বালুর ট্রাক ইঞ্জিনের নিচে আটকে আছে। তবে আল্লাহর রহমতে ট্রেনের কোনো যাত্রী আহত হয়নি
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে চিনকি আস্তানা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম বলেন, "সকাল ৯টার দিকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অলৌকিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।"
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে শক্তভাবে আটকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তা সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে আপ ও ডাউন উভয় লেনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রেললাইনের ওপর থেকে দুর্ঘটনাকবলিত যানটি দ্রুত সরিয়ে নিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ও সংশ্লিষ্টরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।