মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বাঁশখালী প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এলাকার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বাঁশখালী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রণব কুমার দাশ এবং সদস্য সচিব সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিকের নেতৃত্বে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
মতবিনিময়কালে সনাতনী নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম একজন পরীক্ষিত অসাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের অধিকারী। অতীতের দায়িত্ব পালন ও কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি বারবার তার প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁর প্রতি সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও বাঁশখালীতে সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান সংসদ সদস্যের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগের কারণে শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সকল ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে।
এজন্য তারা সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জবাবে অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন,
"আপনারা আমার সঙ্গে আছেন কি না জানি না, তবে আমি সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছি। কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি, তা আমি কখনো বিবেচনায় রাখিনি। আমি বাঁশখালীর সকল মানুষের প্রতিনিধি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করতে চাই।"
তিনি আরও বলেন,
"নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এখন আমার দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি। আপনাদের জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম কর্তব্য। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালেও আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।"
উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন,
"বাঁশখালীর যেসব মন্দির দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়েছে এবং যেসব এলাকায় রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, সেসবের তালিকা তৈরি করে দিন। আমরা পর্যায়ক্রমে বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।"
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বাঁশখালীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাঁশখালীকে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।