মোঃ আশরাফুল আলম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যান অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, এস আলম ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বয়কট এবং গ্রাহকদের উপর নির্মম পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি ১ ঘন্টা কলম বিরতির আহ্বানে গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের ডাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাংকের শাখায় পালিত হয়েছে এক ঘণ্টার কলম বিরতি কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় দিনাজপুর- গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পাশে শুরু হয় সাত দফা দাবি ও গ্রাহক সমাবেশ। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবিতে ব্যাংকের কর্মকর্তার ও কর্মচারীরা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেন।
সকাল ৯ টায় ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১১ পর্যন্ত ব্যাংকটির কর্মকর্তার ও কর্মচারীদের কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।
ফোরামের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের দাবিও জানানো হচ্ছে।
এর আগে সোমবার একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক গ্রাহক আহত হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের সামনে ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মহানগর, জেলা ও উপজেলাগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক মাওলানা এহসানুল হকের সভাপতিত্বে সদস্য সচিবনইঞ্জিনিয়ার শাহিনুর আলম শাহীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক মোকসেদ আলী, ডেন্টিস রাকিবুল ইসলাম, মোঃ নুর আলম, মোস্তাফিজুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সায়েদ আলী সরকার, মোস্তাকিম আজাদ।
ইসলামী ব্যাংক বিরামপুর শাখা প্রধান এ.এইচ.এম. রাশেদ কবির মন্ডল বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহকদের দাবিতে তাদের আমানতকৃত সম্পদের সুরক্ষার জন্য তারা যে দাবি উপস্থাপন করেছেন, তাদের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে আমরা সকাল দশটা থেকে ১১ টা পর্যন্ত কলম বিরতি পালন করেন।