এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরেন্দ্র অঞ্চল ও চরাঞ্চলে প্রতিবছর সাপের কামড়ে প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে গ্রামের মাঠ, ফসলি জমি, চরাঞ্চল ও বসতবাড়িতে বিষধর সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম (ভ্যাক্সিন) না থাকায় জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষধর সাপের কামড়ের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু প্রত্যন্ত বরেন্দ্র ও চরাঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা রাতে চলাচলের সময় প্রায়ই মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক পরিবার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেয়ে ওঝা বা কুসংস্কারের আশ্রয় নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনের জরুরি উদ্যোগ কামনা করে স্থানীয়রা বলেন, উপজেলা পর্যায়েই যদি সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা যায়, তাহলে অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে।