এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
পবিত্র ঈদুল আযহা এলেই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কামারশালাগুলোতে বাড়ে ব্যস্ততা। দা, ছুরি, চাপাতি ও কোরবানির বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে তখন দিন-রাত আগুন জ্বলে হাঁপরে। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এক সময়ের পরিচিত এই পেশা এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। দেশে কামার শিল্প বিলুপ্তির পথে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এমনই এক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সুদূর গ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকায় অস্থায়ী হাঁপরখানা খুলেছেন এক সনাতনী কামার। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানুষের প্রয়োজনীয় লোহার সরঞ্জাম ধার দেওয়া ও প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আগুনের লেলিহান শিখা আর হাঁপরে বাতাসের শব্দে যেন ফিরে এসেছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা সেই চিরচেনা দৃশ্য।
তারা দীর্ঘদিন ধরে বংশপরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে জড়িত এই কারিগর এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য। তবে আগের মতো এখন আর তেমন কদর নেই এই শিল্পের। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে দিনদিন কমে যাচ্ছে কামারশালার সংখ্যা। এই সনাতনী ব্যক্তির জীবনী ও জীবনসংগ্রামের খোঁজখবর নেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। এসময় তিনি বলেন, “কামারের হাঁপর আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এই পেশা আজ বিলুপ্তপ্রায়। এই শিল্প ও শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এটিই আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ—যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।” স্থানীয়দের মতে, ঈদ এলেই এখনও অনেক মানুষ পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী কামারশালায় গিয়ে দা-ছুরি ধার করান। তবে বছরের বাকি সময় কাজ কম থাকায় এই পেশার মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন এই সনাতনী কারিগর।