সাগর আহমেদ,মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত মিঠামইন উপজেলা-এ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত তিন দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। এতে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে উপজেলার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে থেকে আজ ২১ মে পর্যন্ত পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের এই তীব্র সংকট অব্যাহত রয়েছে। অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও তা খুব দ্রুতই আবার চলে যাচ্ছে।
তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগ
টানা কয়েকদিনের তীব্র গরমের মধ্যে এই লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। ঘরের ভেতর থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের মধ্যে অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও তৈরি হয়েছে, ফলে পানিবাহিত ও চর্মরোগ বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।
স্থবির অনলাইন ও সরকারি সেবা
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ এবং অনলাইনভিত্তিক সেবা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ জরুরি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সেবা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।
এছাড়া কম্পিউটার দোকান, ফটোকপি ও ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীর ক্ষোভ
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে? গরমে বাচ্চারা ঘুমাতে পারছে না, অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অফিসে কোনো কাজ হচ্ছে না। আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে মিঠামইন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফাখরুল ইসলাম জানান, হাওরাঞ্চলের তিন উপজেলা—অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২১ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
তিনি আরও জানান, বরাদ্দ ঘাটতির পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ থেকে আসা মূল সঞ্চালন লাইনে প্রায়ই প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাওরবাসীর দাবি, এই তীব্র গরমে দ্রুত বিদ্যুৎ বরাদ্দ বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক।