মো. শাহীন আলম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-এ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ৫০ কেজির বস্তায় পূর্ণ পরিমাণ চাল দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শুক্রবার (১৫ মে) উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন-এ চাল বিতরণের সময় অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ১৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচজন উপকারভোগীর জন্য একটি ৫০ কেজির বস্তা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ বস্তাতেই চাল কম পাওয়া যায়। স্থানীয়রা কয়েকটি বস্তা ওজন করে দেখেন, কোথাও ৪৫, ৪৬, ৪৭ কিংবা ৪৮ কেজি চাল রয়েছে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান নিজে কিছু বস্তা পরিমাপ করলে কোনো কোনো বস্তায় মাত্র ২৮, ৩২ ও ৩৮ কেজি চাল পাওয়া যায়। ফলে প্রতিটি বস্তায় ২ থেকে ২২ কেজি পর্যন্ত চাল কম থাকার অভিযোগ উঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীর ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেকেই কম চাল পেয়েছেন। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে উপকারভোগীদের মধ্যে।
উপকারভোগী আম্বিয়া বলেন,
“বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে আসা-যাওয়ায় ৫০ টাকা খরচ হয়েছে। ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছি মাত্র ৯ কেজি।”
আরেক উপকারভোগী আমজাদ হোসেন বলেন,
“গরিব মানুষের জন্য সরকার চাল দিয়েছে। সেই চালেও যদি কম দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছরই চাল কম দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রকৃত দরিদ্রদের অনেক সময় তালিকায় রাখা হয় না, বরং বিত্তবানদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তারা এসব চাল স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে দেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর কিছু সময়ের জন্য বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে পরে একই বস্তাগুলো পুনরায় বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চাল বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো বক্তব্য দেননি।
চাল বিতরণের সার্বিক দায়িত্বে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল অভিযোগের দায় খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে বলেন,
“চাল গুদাম থেকে যেভাবে এসেছে, সেভাবেই বিতরণ করা হয়েছে। কম থাকলে গুদাম থেকেই কম দেওয়া হয়েছে।”
তবে চাল গ্রহণের সময় ওজন যাচাই না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“এত বস্তা আলাদাভাবে ওজন করা সম্ভব হয়নি।”
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন,
“দুস্থ মানুষের চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”