শফিকুল আলম সজীব, দুর্গাপুর প্রতিনিধি নেত্রকোনা ।
নেত্রকোনার দুগাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক (গোরখোদক) ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। কেলিসের রেখে যাওয়া দুই এতিম সন্তান ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান কমিটি।
মঙ্গলবার (৫ মে) কবরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে মরহুমের পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সহায়তা প্রদানকালে কবরস্থান কমিটির উপদেষ্টা ও তেরি বাজার বড় মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা আব্দুর রব সাহেব হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি ও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। কবরস্থান কমিটির উপদেষ্টা ও তেরি বাজার বড় মসজিদের সেক্রেটারি হাজী কাশেম মড়ল অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "কেলিস শুধু একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের কবরস্থানের প্রাণ। দিন-রাত মানুষের শেষ বিদায়ে তিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। আজ তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের নৈতিক আমানত।"
কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক হাওলাদার বলেন, বর্তমান এই সহায়তা কেবল শুরু। কবরস্থান কমিটি কেলিসের সন্তানদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী তহবিল (ফান্ড) গঠনের পরিকল্পনা করছে, যাতে পরিবারটি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা পায়। এছাড়াও কমিটির পক্ষ থেকে কেলিসের একটি সন্তানকে কবরস্থান মাদ্রাসায় হেফজ পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করবে।
নিহত কেলিসের পরিবার বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। কমিটির পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের প্রতি এই এতিম পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, "কেলিস মানুষের যে সেবা দিয়েছেন, তার ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। তবে অভাবের কারণে যেন তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ থমকে না যায়, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।"
এদিকে কেলিস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত মূল হোতা নূর মোহাম্মদসহ সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে দুর্গাপুর। এলাকার সাধারণ মানুষ ও কবরস্থান কমিটির ব্যানারে ইতোমধ্যেই "হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই" দাবিতে সড়কে মিছিল বের করে।