অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তর উপজেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই কাঠামোতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তেমন আগ্রহী নয় বলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত—উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরির উদ্যোগ—নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার বলছে, এটি প্রশাসনিক সমন্বয় ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর অংশ। তবে স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা এটিকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার এরশাদ আমলে চালু হওয়া উপজেলা পরিষদ বাতিল করে। পরে বিভিন্ন সময়ে আইন প্রণয়ন ও নির্বাচন হলেও উপজেলা পরিষদ কখনোই পূর্ণ কার্যকারিতা পায়নি। বিশেষ করে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রভাবের কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছে এবং তাদের স্থলে ইউএনওদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে উপজেলা পরিষদগুলো কার্যত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে সরকার প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার কৌশল নিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা পরিষদ জেলা ও ইউনিয়নের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই স্তর দুর্বল বা বিলুপ্ত হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন বিকল্প কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।