অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পরিচয়ে সাধারণ মানুষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী এসব অভিযোগের তদন্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পরিচয়ে সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে তা কুরুচিপূর্ণভাবে প্রকাশ করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব অনিয়ম রোধে আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি বা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে শাস্তি বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
এছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়কে সাইবার প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে।
সাইবার অপরাধ শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে অবস্থান করে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে।