হুমায়ুন রশিদ জুয়েল, স্টাফ রিপোর্টার:
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা বেশ কিছু ওসিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার করা হয়। ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল।
তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবারও ওইসব বিতর্কিত ওসি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন থানায় পুনরায় পদায়নের তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসব পদায়নে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওসি পদায়নের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক তদবির এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ থানায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শতাধিক ওসি বদলির ঘটনা ঘটেছে। এসব পদায়নের ক্ষেত্রে বিতর্কিত ও সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার প্রায় সব থানায় ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া থানায় বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত মতিউর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬টি থানায়ও নতুন করে ওসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঢাকার বনানী থানায় ফরিদুল ইসলামের নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অতীতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এমনকি পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত হওয়ার পর তিনি থানার বিভিন্ন সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামানকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করার পর তাকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন করায় অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সাবেক ওসি মাহাবুব রহমানকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় পদায়ন নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে এ পদায়ন হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, মাদারীপুরের শিবচর এবং ঢাকার আশুলিয়াসহ বিভিন্ন থানায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক গণমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা জারি করলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মনিরুল হক ডাবলু বলেন, ওসি পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন ও তদবিরের প্রভাব বাড়ছে। এতে পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বঞ্চিত ও সৎ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করে পদায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।