শফিকুল আলম সজীব (দুর্গাপুর)নেত্রকোনা।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় ৬ ব্যক্তিকে তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই 'সাক্ষী' করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে এই প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির বহিষ্কৃত সভাপতি কলি হাসান গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে নেত্রকোণা দ্রুত বিচার আদালতে সমিতির তিন সাংবাদিক— সজীম শাইন, পলাশ সাহা ও মামুন রণবীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন (সিআর মামলা নং- ৮(১) ২০২৬)। মামলায় আনীত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
উক্ত মামলায় মোট ৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। তারা হলেন:
রাজেশ গৌড় (সদস্য, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি)
সৈকত সরকার (সদস্য, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি)
মোরশেদ আলম (সদস্য, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি)
ডা. মো. আলী উসমান (সদস্য, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি)
মো. জালাল উদ্দিন (স্টাফ, সাংবাদিক সমিতি)
তরিকুল ইসলাম (স্থানীয় সাংবাদিক)
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাদী কলি হাসান মামলার সাক্ষী করার বিষয়ে এই ৬ জনের কারো সাথেই কোনো কথা বলেননি বা তাদের ন্যূনতম সম্মতি নেননি। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর সাক্ষীরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন যে, তাদের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
"যেহেতু মামলায় উল্লেখিত বিষয়গুলো ভুয়া ও ভিত্তিহীন এবং আমাদের অনুমতি ছাড়াই সাক্ষী করা হয়েছে, তাই এটি স্পষ্ট যে বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি সাংবাদিক সমিতির সম্মান ক্ষুণ্ন করার একটি অপচেষ্টা।"
সংবাদ সম্মেলনে কলি হাসানের এই কর্মকাণ্ডকে 'অসৎ ও দুরভিসন্ধিমূলক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাক্ষীরা সম্মিলিতভাবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জনসম্মুখে সত্য তুলে ধরতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।