এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পরিবহন কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এ রুটে ট্রাক চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে পণ্য পরিবহনে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দর ঘুরে দেখা যায়, সংলগ্ন কয়লাবাড়ি ট্রাক টার্মিনালে শত শত ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চালকরা নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ ধরতে পারছেন না। এতে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।স্থানীয় ট্রাক মালিক ও চালকদের অভিযোগ, ডিজেলের ঘাটতি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় টার্মিনালে আটকে থাকছে। ফলে ট্রিপ কমে যাওয়ায় ভাড়া বেড়ে গেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন খরচ ও বাজারদরে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে সারাদেশে পাথর সরবরাহকারী ব্যবসায়ী আলমগীর জুয়েল জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার ব্যবসা মন্দার মুখে পড়েছে। তেলের সংকটের কারণে সময়মতো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে এবং ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরে পণ্য জমে থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর মতো ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। আর পাওয়া গেলেও ভাড়া তুলনামূলক বেশি। আগে সোনামসজিদ থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক ভাড়া ছিল ৩২ থেকে ৩৩ হাজার টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, ট্রাক চালকদেরও দুর্ভোগ কম নয়। কয়লাবাড়ি ট্রাক টার্মিনালে বসে অলস সময় পার করছেন তারা। চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ট্রিপ দিতে যেখানে প্রায় ৯০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, সেখানে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৫০ লিটার। তাও পেতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে দুই দিন ধরে তেল সংগ্রহ করে একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এতে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে অনিশ্চয়তা।চাঁপাইনবাবগঞ্জ দি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়, তার ওপর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।