জাকিয়া বেগম বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলি হওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে হয়তো এই নিয়ম যেন কেবলই কাগুজে এক বিধান। এমনই এক বিস্ময়কর নজির সৃষ্টি করেছেন ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (ডিআরএস) ডাঃ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান মানিক।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিনি তার বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করেন। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেছে দীর্ঘ ১০টি বছর। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, নীতিমালায় এসেছে রদবদল, কিন্তু ডাঃ মানিকের চেয়ারটি যেন কোনো অদৃশ্য জাদুমন্ত্রে নিজ স্থানেই অটল হয়ে আছে।
একই কর্মস্থলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করা কেবল অস্বাভাবিকই নয়, বরং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালা নিয়ে জনমনে তীক্ষ্ণ প্রশ্নের উদ্রেক করে। যেখানে অন্যান্য চিকিৎসকদের ঢাকার বাইরে বা দুর্গম এলাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এই কর্মকর্তার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের নেপথ্যে কোন 'আলাদিনের চেরাগ' কাজ করছে?
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত তিন বছর অন্তর বদলির বিধান থাকলেও ডাঃ মানিকের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যত্যয় কেন? এটি কি নেহাত প্রশাসনিক শিথিলতা, নাকি বড় কোনো অনিয়মের ঢাকা পড়া অংশ? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদী বদলি নীতিমালার সুফল কি কেবল সাধারণ চিকিৎসকদের জন্যই, প্রভাবশালীদের জন্য নয়?
একই চেয়ারে ১২ বছর অতিবাহিত করা এই অপ্রতিরোধ্য মেডিকেল অফিসারের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগে কানাকানি তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং প্রশাসনের স্থবিরতা ভাঙতে দ্রুতই এই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার অবসান ঘটবে।
এসংক্রান্তে ময়মনসিংহের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ প্রদীপ কুমার সাহা জানান, এবিষয়টি উনি অবগত আছেন। দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।