এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে আম, বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৭ হাজার ১৩৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় বিকেল ৩টার পর থেকে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, যা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে ভোলাহাট উপজেলায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সেখানে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উপজেলা ভিত্তিক ক্ষতির চিত্রে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ১৯৫ হেক্টর জমির ধান, ১৫৬ হেক্টর আম ও ৪ হেক্টর সবজি-পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে—এখানে ৮৪১ হেক্টর ধান, ৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর আম, ৭৩ হেক্টর সবজি ও ২৫ হেক্টর ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাচোল উপজেলায় ২০০ হেক্টর ধান, ২০০ হেক্টর আম ও ৫০ হেক্টর সবজি এবং গোমস্তাপুরে ৩০০ হেক্টর বোরো ধান, ২২০ হেক্টর আম ও ২৫ হেক্টর সবজি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলায় তুলনামূলকভাবে শিলাবৃষ্টির তীব্রতা বেশি ছিল। কানসাট, চককীর্তি ও মোবারকপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দুপুরের পর থেকেই আকাশে মেঘ জমতে থাকে। বিকেলের দিকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি, এরপর শিলাবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতেই আম ঝরে পড়ে এবং ধান ও সবজির গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক জায়গায় আমগাছের পাতাও ঝরে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, ভোলাহাটে বৃষ্টিপাত কম হলেও বাকি চার উপজেলায় কমবেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে শিবগঞ্জে তীব্রতা বেশি ছিল। মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক জরিপ শেষে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, শিলার আকার ছোট হওয়ায় মূলত গাছ থেকে ঝরে পড়া আমই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কৃষকদের আমের পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হবে।