সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০নং ছলিমপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাংলা বাজার এলাকায় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের দুই ভাইসহ একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হয়। পরে পারিবারিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও সেই বিরোধের রেশ ধরে পুনরায় এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার দিন এলাকায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে আইমা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন যুবক অশ্লীল মন্তব্য ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করে। একপর্যায়ে বিষয়টি ইভটিজিংয়ে রূপ নিলে তার বড় ভাই সাইমন চৌধুরী প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সাইমন চৌধুরীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং পরবর্তীতে তার বাড়িতে ঢুকে জানালা-দরজা, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকা ছোট ভাই আইমন চৌধুরী পরে এসে পরিস্থিতি দেখে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরিবারের নারী সদস্যরা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা দুই ভাইসহ তিন বোন ও মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত হন পরিবারের ছোট বোন আইমা চৌধুরী। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার মাথায় আটটি সেলাই দেন। এছাড়া সাইমন চৌধুরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আইমন চৌধুরী জানান, তিনি একজন পাঠাও রাইডার এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী সদস্যদের একজন। পিতার মৃত্যুর পর মা, বড় ভাই ও তিন বোনকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। অভিযুক্তরা তার বাবার জেঠাতো ভাইয়ের ছেলে এবং তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
“তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। ফিরে এসে দেখি আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমার মা ও বোনেরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। আমার ছোট বোনের মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়, পরে হাসপাতালে তার মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরদিন ৩১ মার্চ সীতাকুণ্ড মডেল থানায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুনাফ জানান, “ঘটনাটি আমাদের জানা আছে। ভুক্তভোগী কাজী মুহাম্মদ আইমন চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা আওয়ামী সরকারের আমলে এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছিল। তাই ৫ই আগস্টের পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।