সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য করাতকল পরিবেশ ও বনসম্পদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় প্রায় ৭০টির মতো করাতকল থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এসব করাতকলের অধিকাংশই পরিচালিত হচ্ছে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই।
সরকারি গাছও রেহাই পাচ্ছে না
অভিযোগ উঠেছে, এসব করাতকলের মাধ্যমে সরকারি বনাঞ্চলের গাছও নির্বিচারে কাটা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের আঁধারে বনভূমি থেকে কাঠ সংগ্রহ করে করাতকলগুলোতে সরবরাহ করছে।
এতে করে বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বেসরকারি সম্পদেও হানা
শুধু সরকারি বনভূমিই নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছও চুরি করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনেক জমির মালিক জানান, তারা সকালে গিয়ে দেখেন রাতারাতি তাদের গাছ উধাও হয়ে গেছে।
আইন উপেক্ষা করে ব্যবসা
প্রচলিত আইন অনুযায়ী করাতকল স্থাপন ও পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রয়োজন।
তবে মিরসরাইয়ের অধিকাংশ করাতকলই এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে।
প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের নীরব ভূমিকার কারণেই এই অবৈধ কার্যক্রম বিস্তার লাভ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব
বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে গাছ নিধন চলতে থাকলে এলাকায় ভূমিক্ষয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত এসব অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, অবৈধ করাতকল বন্ধ, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং বনভূমি রক্ষায় কঠোর মনিটরিং এখন সময়ের দাবি।
মিরসরাইয়ের বনসম্পদ রক্ষা করতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো দেশের পরিবেশের,