শফিকুল আলম সজীব, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও প্রকট জনবল সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতাল হল রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান বেহাল দশা দেখে তিনি নিজেকে ‘স্তম্ভিত’ বলে উল্লেখ করেন।“হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ”।
বক্তব্যের শুরুতেই দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “কথায় আছে সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিবো কোথায়। আজ হাসপাতালে এসে দেখলাম হাসপাতালেরই সর্বাঙ্গে ব্যথা, এখন চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে কীভাবে চিকিৎসা দিবেন?” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা হলেও বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক।
সভায় ২০২৫ সালের একটি বার্ষিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। দেখা যায়, এক বছরে বহির্বিভাগে ১,৪৭,৪০৫ জন এবং জরুরি বিভাগে ৩৩,৯৭১ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। অন্তঃ বিভাগে ভর্তি ছিলেন ১৬,৬৭৮ জন। জেলা পর্যায়ে হাসপাতালটি ১ম স্থান অধিকার করলেও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব প্রকট। বিশেষ করে গত এক বছরে মাত্র ৩৪টি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।সার্জারী, অর্থোপেডিক্স, মেডিসিন, গাইনী ও অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্টদের শূন্য পদে দ্রুত পদায়ন।
ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, অটো বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার এবং সেল কাউন্টার মেশিনের জরুরি চাহিদা।
নতুন আবাসিক ভবন ও স্থায়ী স্টোর নির্মাণসহ ব্লাড ট্রান্সফিউশন ইউনিট চালু করা।
অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, ফার্মাসিস্ট, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও নিরাপত্তা প্রহরীর শূন্য পদ পূরণ।
চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যাকে সেবার পথে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “চিকিৎসকদের মানসিক শান্তি ও উন্নত আবাসন ছাড়া ভালো সেবা আশা করা যায় না।” তিনি অবিলম্বে হাসপাতালের জমি ও অবকাঠামো সংক্রান্ত সব ফাইল তলব করেছেন এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।