মোঃআব্দুল হান্নান প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার প্রায় চার লক্ষ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবার আশ্রয়স্থল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।পযার্প্ত জনবল না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। এছাড়া রয়েছে রোগীদের নিন্মমানের খাবার পরিবেশনের ব্যাপক অভিযোগ।এনেসথেসিয়ার অভাবে বিকল হচ্ছে যন্ত্রপাতি। গাইনি,সার্জারী, শিশু, চর্ম যৌন , অর্থপেডিক্স, মেডিসিন এনেস্থিসিয়া সহ ২৩ টি পদের মধ্যে ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ পদই রয়েছে খালি। মাত্র কয়েক জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের একমাত্র সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, নাসির নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসক পদ রয়েছে ২৩ টি। এরই মধ্যে ৭ টি পদই খালি। এছাড়া কনসালটেন্ট ১০ টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১ টি। নার্স ৩৫ টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১৯ জন। নার্সদের মধ্যে আবার প্রেষনে চলে গেছে ৫ জন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছে ৩ জন। এনেস্থিসিয়ার জন্য চিকিৎসক না থাকায় চালু হচ্ছে না সিজার সহ ছোট খাটো অপারেশন। চিকিৎসকদের সহকারী সেকমো ১৫ টি পদের বিপরীতে আছে ৩ জন।
১ জন রেডিওলজিস্টের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না এক্স-রে মেশিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি থাকার পরও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অভাবে চালু হচ্ছে না এক্স-রে মেশিন। যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওড় বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার গরিব অসহায় কেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিদিনের ন্যায় চিকিৎসক কক্ষের সামনে নারী, পুরুষ, শিশু সহ দীর্ঘ লাইন। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসক কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। এ বিষয়ে আর এম ও ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০থেকে ৪০০ রোগী এই হাসপাতালে বর্হিঃবিভাগ থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকে। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর চেয়ে মহিলা, শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক না থাকায় এতো রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ৭০ বছর বয়সী নারী জমিলা খাতুন বলেন, আমার বয়স হইছে কোমড়ের বেদনা উঠতে পারিনা বইতে পারি না নমাজ পড়তে খুব কষ্ট হয়। আমি গরিব মানুষ আইছিলাম ডাক্তর দেহাইতে (অর্থোপেডিক্স), আইয়া দেহি ডাক্তর নাই। আর কি করুম বাড়িত যাইগা। চর্মরোগ চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একজন বলেন, আইছি চর্মের ডাক্তার দেখাইতে আইয়া দেখি ডাক্তার নাই। ডাক্তার না পাইয়া বাড়িতে চইলা যাইতেছি। অতবড় হাসপাতালে আইছিলাম চিকিৎসা করামো, ওষুধ খামু কিন্তু ডাক্তার নাই। সরকারে অতবড় হাসপাতাল দিচে কেরে যদি ডাক্তার না থাহে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে শষ্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝেতে গাদাগাদি করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঔষধ সংকটতো নিত্যদিনের। বর্তমান সময়ে হঠাৎ করে হাম রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়াতে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে প্রতিদিন ২০-২৫ জন হামের উপ-সর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকাতে প্রেরণ করতে হয়। হামের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অদিতি রায় বলেন এ পর্যন্ত ৪ জন হামের রোগী ভর্তি করা হয়েছে। এর সংখ্যা বাড়তে পারে ।তিনি বলেন যে, হাম উপসর্গ নিয়ে ৪ জন বাচ্চা ভর্তি আছে, এরই মধ্যে ৩ জনের নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করেছি, আরো এক জনের নমুনা পাঠানো হবে। হামের রোগী বাচ্চা যারা আসবে তাদের জন্য আমরা হাম কর্ণার চালু করেছি। উপসর্গ নিয়ে যারা আসবে, তাদের ঐ কর্ণারে ভর্তি রাখার চেষ্টা করছি।
বহিঃবিভাগেও হাম সদৃশ্য উপসর্গ নিয়ে আসছে,তাদের কেউ৷ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসকরাও কাউন্সিলিংকরছে, আমরা সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের সার্বিক বিষয় নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অদিতি রায় প্রতিবেদককে জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু চিকিৎসকের অনেক পদ শূন্য, ঔষধ সংকট, অপারেশন থিয়েটার সচল থাকলেও এনেস্থিসিয়ার অভাবে সিজার অপারেশন করা যাচ্ছে না। উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশাবাদী কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো চিকিৎসক সংকট দূরীভূত হবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান করবেন। এছাড়া জনবল শূন্যতার বিষয়ে আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছি, চিকিৎসকদের জন্য। সামনে চিকিৎসক নিয়োগ আসছে, আশা করছি কতৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় আনবেন। অচিরেই চিকিৎসক সংকট কাঁটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।