নাহিদ হাসান,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ডঃ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান গত বৃহস্পতিবার অবসরে গেছেন । অবসরে যাওয়ায় শূন্য মহাপরিচালক পদে পদায়ন নিয়ে সংস্থাটিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। মহাপরিচালক পদ পূরনের জন্য ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সুপারিশে তার দুর্নীতির সহযোগী বর্তমান পরিচালক (গবেষণা) এর রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত ড. মো: রফিকুল ইসলামকে মহাপরিচালক পদে পদায়নের জন্য ব্রি'র একটি সিন্ডিকেট মাঠে নেমেছে।
পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্বরত ড. মো. রফিকুল ইসলাম গত বছরের ৯ জানুয়ারি এই পদে যোগ দেন। পরিচালক গবেষণা পদে পদায়নের পরও তিনি ব্রি'র মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ আছে, মহাপরিচালক হিসেবে তার পদায়নে অবৈধ লেনদেনের অর্থ যোগান দিচ্ছে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় প্রকল্প উন্নয়ন পার্টনার ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিদেশি একটি প্রকল্প। অথচ ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও ড. রফিক, পরিচালক (গবেষণা) রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই দুইজনের দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা, পদোন্নতি প্রদানে অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানে গ্রুপিংয়ের কারণে বারবার বিস্ফোরণোন্মূখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে গত ১৯ মাসে ব্রি'র ভাবমূর্তি এখন তলানীতে। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সাম্প্রতিক ৭৫টি পদে নিয়োগ দেয়া নিয়ে অনেক অভিযোগ পত্র পত্রিকায় এসেছে। লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা না দিয়েই চাকুরী পাওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। আবার কাজে যোগদান করতে এসে ভূয়া সনদে ধরা খেয়ে কেউ গেছে শ্রীঘরে। কেউ আবার যোগদানের পর ভয়ে পালিয়েছে। আবার কেউ যোগদান করতেই আসেনি। এই সকল বিতর্কিত নিয়োগের সাথে ব্রি'র মহাপরিচালক যেমন জড়িত ঠিক তেমনি নিয়োগের মূল কারিগর ছিলেন বর্তমান পরিচালক (গবেষণা) ডঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম।
গত বছরের জানুয়ারিতে পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রকল্প হোক বা রাজস্ব উভয় ক্ষেত্রেই তিনি তার আত্মীয় পূনর্বাসনের রেকর্ড গড়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ১০-১৫ জন আত্মীয়কে তিনি পুনর্বাসন করেছেন। তন্মধ্যে তাঁর ভাতিজা খায়রুলকে ব্রি সিরাজগঞ্জে শ্রমিক পদে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ভাতিজা মারা গেলে তাঁর স্ত্রী কানিজকে সিরাজগঞ্জে একই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। লিমন নামে তাঁর আরেক ভাতিজাকে ব্রির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রজেক্টে নিয়োগ দিয়েছেন। আরেক ভাতিজা পলাশকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে এবং ভাতিজা বউ শিমলাকে এগ্রোমেট ল্যাবে নিয়োগ দিয়েছেন।
ব্রির সাম্প্রতিক শেষ হওয়া নিয়োগে কামিয়েছেন অবৈধ অর্থ। নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার সময় দুজন ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়ে, যে দুজনের গ্রামের বাড়ি ডঃ রফিকুলের নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের নিজ গ্রামের। এ কারণে তাঁর স্বজনপ্রীতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে মুখরোচক গল্প এখন সকলের মুখে মুখে। এর বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পে সম্পূর্ন অস্থায়ী ভিত্তিতে নিজ এলাকার লোকজন নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পরিচালক গবেষণার রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার পরও গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এখন পর্যন্ত তিনি মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব ধরে রেখেছেন। একই সঙ্গে SACA নামে একটি প্রজেক্টের প্রিন্সিপাল ইনভেস্ট্রিগেটর এর দায়িত্ব পালন করছেন নিয়ম লঙ্ঘন করে।
পরিচালক গবেষণার নির্দেশে সিনিয়র সহকারী পরিচালক কাওসার আহমেদ অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে হাবিবুর রহমান মুকুলের স্ত্রী কে নিয়ম বহিভুতভাবে প্রধান শিক্ষক করেন। কাওসার আহমেদ এর বিরুদ্ধে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে রব কমিশনে দূর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্বেও ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি অবৈধভাবে প্রমোশন বাগিয়ে নেন।