নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এতে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগে বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয় এবং এ বিষয়ে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। তবে সরকার গঠনের পর তারা ওই অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আইনটি পাস হলে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
গত ১৩ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় এবং সেগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংসদে অনুমোদন না পেলে এসব অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে।
বিশেষ কমিটি বেশিরভাগ অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করলেও কিছু সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি অন্যতম, যা সংশোধন করে আইনে পরিণত করার কথা বলা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশের আওতায় আগে থেকেই আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এর ফলে দলটি সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচার কার্যক্রম কিংবা সংবাদ সম্মেলন করতে পারছে না। এমনকি দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো বিধিনিষেধও কার্যকর রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী ধরনের শাস্তি হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনের ধারাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শাস্তির ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না এলেও দলটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।