আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান একদিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক শক্তির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার দাবি করেছে। দেশটির মতে, সাম্প্রতিক অভিযানে একাধিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস এবং দুটি সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনাটি দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের আকাশসীমায় সংঘটিত হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে শত্রুপক্ষের আকাশ অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক ড্রোনও সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথমে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করা হলেও পরে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। এতে একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাপে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে যায়।
নিখোঁজ সেনাদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টারও বাধার মুখে পড়ে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গুলি ছোড়া হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তারা অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump নির্ধারিত সফর বাতিল করে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানগুলোর পাইলটদের জীবিত আটক করতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।