এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে হাম (Measles) সংক্রমণ। সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস জনিত রোগের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য জানা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এই রোগ থেকে সহজেই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সব ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক না হলেও কিছু শিশুদের জন্য এটি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis) দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। দেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। অধিক সংখ্যক শিশু টিকা নিলে সংক্রমণের বিস্তারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। আক্রান্ত রোগী অভিভাবকদের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন—শিশুর সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হাম নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। গুজব বা ভুল তথ্য এড়িয়ে বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুসরণ করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তাদের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।