আব্দুল লতিফ সরকার,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
হঠাৎ আঘাত হানা শিলাবৃষ্টিসহ তীব্র ঝড়ে লালমনিরহাট জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জেলার সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম—সবকটি উপজেলায় ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কৃষকদের মাঠভরা সোনালি স্বপ্ন মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সসরেজমিনে দেখা যায় ঝড়ের সঙ্গে ছিল তীব্র দমকা হাওয়া ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। এতে অনেক টিনের ঘরের চাল উড়ে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের উপর গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।
কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। বোরো ধান, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই জানান, কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।