বিশেষ প্রতিনিধিঃ চৌধুরী জুয়েল রানা
নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার যোগানিয়া হাট সরকারিভাবে খাস ঘোষণা করা হলেও সেখানে এখনো টোলের নামে অতিরিক্ত টাকা সহ জোর পূর্বক ঈদ বোনাস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর টেন্ডার আহ্বান করলেও কোন সিডিউল না পড়ায় হাটটির ইজারা না হওয়ায়, বিএনপি নেতা শরাফত আলী শবো। ইজারার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৮ লাখ ৮০০ টাকা। এর মধ্যে ৫ ছয় লাখ টাকার পরিশোধ করতে বাকি আছে বলে জানায়।
কিন্তু বাস্তবে খাস ঘোষণার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন হাটের ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে হাটে গিয়ে বিক্রেতা ও দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা অনেকেই জানেন না যে হাটটি খাস ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি হাটে আগের মতোই অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পূর্বের ইজারাদার পক্ষের লোকজন এখনো অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে ‘বোনাস’ নামেও টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, শরাফত আলী শবো হাটটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সাপ্তাহিক দুই দিনের হাট বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। তাদের মধ্যে হাফিজ, রিপন, মহ্মের, লুৎফার, দেলবার, মন্টু মাস্টার ও পাগলা কুদ্দুসসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে টোল আদায় করছেন এবং সরকারি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাত আলি বলেন, “হাটটি খাস ঘোষণার পর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে অতিরিক্ত টোল আদায় বা ঈদ বোনাস নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
খাস হাট পরিচালনাকারি শরাফত আলী শবোর সাথে কথা হলে তিনি বলেন হাট খাস ঘোষণা করছে,এমন কোন নোটিশ পাইনি এবং আমি জানিও না।