নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি,কামরুল হাসান
এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তোজনা বিরাজ করছে
কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই এই গ্রামে।
এদিকে, শুনই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেলিম বিশ্বাস ও অপরদিকে আব্দুল হাকিম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রধান শিক্ষক তার অভিযোগে লিখেছেন, প্রতিষ্ঠান লগ্ন ১৯৯৫ খ্রি. থেকে অদ্যাবধি প্রধান শিক্ষক হিসাবে শুনই উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজে ১৯৯৭ সনে বিদ্যালয়ের ১.৫০ একর ভূমির দক্ষিণ পার্শ্বের ভূমি ও তৎ সংলগ্ন হালটে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ক্রমে ওয়ার্ড ভিশন সংস্থার অর্থানুকল্যে একটি পাগার খনন করা হয়। যাতে প্রতি বর্ষা কালে মাছ রক্ষিত হয় এবং উক্ত মাছ ম্যানেজিং কমিটির তত্ত্বাবধানে বিক্রি করে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছিল ১৯৯৭ খ্রি. সন থেকে ২০০২ খ্রি. সন পর্যন্ত। ২০০৩ খ্রি. সন থেকে বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মো: আব্দুল হাকিম মসজিদের মাইক ক্রয় ও মসজিদের জমি দলিল করার খরচ নির্বাহের জন্য ২০০৬ খ্রি. সন পর্যন্ত পাগারের আয় আল্লাহর ওয়ান্তে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। ম্যানেজিং কমিটি তার প্রস্তাব মঞ্জুর করেন। ২০০৬ খ্রি. সন অতিক্রান্ত হওয়ার সময়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দ্বন্ধে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা হয়। মামলা চলাকালীন ২০১৮ খ্রি. সন পর্যন্ত আব্দুল হাকিম পাগারটির আয় বিদ্যালয়কে না দিয়ে নিজে ভোগ করেন। অতপর ০৮/০৪/২০১৮ খ্রি. থেকে ৩০/১১/২০২২ খ্রি. সন পর্যন্ত কখনো এডহক কখনো নিয়মিত কমিটির সভাপতি হিসেবে পাগারের আয় নিজে ভোগ করেন। ৩০/১১/২০২২ খ্রি. সনে নতুন কমিটিতে অন্য ব্যক্তি নতুন সভাপতি হন। নতুন সভাপতির কাছে আব্দুল হাকিম ২ (দুই) বছর সময় চান। ২০২৫ খ্রি. সনে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে এলাকাবাসীর সকলকে নিয়ে খোলা ডাকের মাধ্যমে ৪৬,৫০০/- (ছেচল্লিশ হাজার পাঁচশত) টাকা ডাক দিয়ে পাগার বিক্রি করি। পরে গন্য মাণ্যদের পরামর্শে শেষ বারের মতো সম্পূর্ণ টাকা মসজিদে দান করি। আব্দুল হাকিম সকলের সামনে মিটিং এ বলেন তার আর পাগারের উপরে দাবি নাই কিন্তু দুঃখের বিষয় আব্দুল হাকিম গত-০৮/০৩/২০২৬খ্রি তারিখে আবার বলপূর্বক পাগার সেচ দিয়ে মসজিদের নামে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরোও জানান,আব্দুল হাকিম ১ একর জমি দান করেছেন। অপর দুইজন শতাংশ জমি দান করেছেন। নিয়মানুযায়ী শুনই উচ্চ বিদ্যালয় ১.৫০ একর জমির মালিক এই মর্মে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ মাঠের দক্ষিণ অংশে নিজ ভূমি এবং সংলগ্ন হালটে পাগার দিয়েছেন তার প্রকৃত তত্ত্বাবধানের দাবিদার শুনই উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু আব্দুল হাকিম মসজিদের দোহাই দিয়ে ২০০৩ খ্রি. সন থেকে ২০২৪ খ্রি.সন পর্যন্ত পাগারের আয় আত্মসাৎ করেছেন।
এদিকে আব্দুল হাকিম পাল্টা শুনোই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ১২ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রটিতে আরো গ্রামবাসীর স্বাক্ষর রয়েছে।
আবুল হাকিম তার অভিযোগপত্রে লিখেছেন যে, শুনই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেলিম বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সকল প্রকার ল্যাপটপ ও কম্পিউটার বিদ্যালয়ে না রেখে তিনি তার নিজ বাড়ীতে রেখেছেন। শিক্ষার্থীদের কে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রেখেছেন। ওয়ালভিশনের পুরাতন টিনসেট ও হাফবিল্ডিং ঘরগুলো নিলামে না তুলে নিজের বাড়ীতে স্থাপন করে ব্যবহার করতেছেন। উনি হাইস্কুলের একজন প্রধান শিক্ষক হয়েও এলাকার জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন। ভোক্তভোগীরা টাকার জন্য তাগাদা দিলে উনি বিভিন্ন হুমকি দুমকি ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পিছনে নালা যা সরকারি হালট দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের মাধ্যমে মাছ চাষ করে আয় উর্পাজন করে আল্লাহর ঘর মসজিদের কাজে ব্যবহার করা হয়। উনি উক্ত নালা বা হালট দখল করার জন্য পায়তারা করতেছেন। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির বিষয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করেছেন। কোন ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবক প্রতিবাদ করলে ছাত্র-ছাত্রীকে ভর্তি থেকে বাদ দিয়ে দিবেন বলে অনেককে ভয় ভীতি দেখিয়েছেন। যার ফলে কোন অভিভাবক মুখ খুলতে কিংবা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। এ ধরনের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসতেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ও বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পোগলা ইউনিয়নে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন গ্রামবাসীরা।