মোঃ আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সোনাই নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশে সোনাই নদীর তীরে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড় কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর তীর দখল করে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে অবাধে মাটি উত্তোলন এবং নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাটি পাচার করছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সোনাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে পার্শ্ববর্তী শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে যায়। এসব জমি রক্ষার জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন করা হয়েছিল। খননের সময় উত্তোলিত মাটি নদীর তীরে স্তুপ করে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে একটি অসাধু চক্র নদীতে বাঁধ সৃষ্টি করে পানি নিষ্কাশনে বাধা দিচ্ছে এবং সেই মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা, জমির ছড়ি পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও মাটিখেকোদের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই আতঙ্কে মুখ খুলতে পারছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাসরিন বলেন, “অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বা পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।