নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদাবাজির ঘটনায় আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন শিক্ষার্থী—রিয়াদুল হাওলাদার, আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার—কেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ তিথি এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরমান আলী। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে আদালত শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার বাদী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন। তিনি রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব শত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে নির্জনের সঙ্গে আসামিদের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠ ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজ্জাক একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্জনের মুখমণ্ডলে আঘাত করেন, এতে তার নাকে কেটে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে এলোপাথারি মারধর করা হয়। সহপাঠী ও শিক্ষকরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হুমকি দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশান এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদর বাসায় চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায়ও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাজ্জাক। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।