লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা ও আলীকদম—এই দুই উপজেলার মোট দশটি ইউনিয়নে সার ডিলারদের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের শর্ত ও সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠিয়াছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক অনুমোদিত সার ডিলার লাইসেন্সে নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করিয়া তামাক চাষীদের নিকট চড়া দামে সার বিক্রি করিতেছেন, ফলে রবি মৌসুমের শস্য চাষে নিয়োজিত কৃষকরা তীব্র সার সংকটে পড়িয়া বিপাকে পড়িয়াছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলিয়া জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার তামাক চাষীদের নিকট বিক্রি করা হইতেছে। বিপরীতে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নিয়োজিত রবি শস্য চাষীদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করা হইতেছে না অথবা ‘সার নাই’ মর্মে ফিরাইয়া দেওয়া হইতেছে বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কিছু সার ডিলার তামাক কোম্পানির প্রভাব বা লাভজনক চুক্তির কারণে খাদ্যশস্যের পরিবর্তে তামাক চাষে অগ্রাধিকার দিতেছেন। ফলে গম, ভুট্টা, ডাল ও সবজি চাষে নিয়োজিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সময়মতো সার না পাইয়া ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়িয়াছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষি ব্যবস্থাপনাকেই ব্যাহত করিতেছে না, বরং সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি নীতির পরিপন্থী হইয়া উঠিতেছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলারদের দায়িত্ব হইল সকল শ্রেণির কৃষকের নিকট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। ইহার ব্যত্যয় ঘটিলে প্রশাসনিক তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবেই এই অনিয়ম দিনের পর দিন চলিয়া আসিতেছে। কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি জোরদার না হইলে রবি শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে।
এ বিষয়ে সচেতন কৃষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে সার ডিলারদের লাইসেন্স নবায়ন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা, তামাক চাষে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান বন্ধ করা এবং প্রকৃত কৃষকদের নিকট নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাইয়াছেন।
পরিশেষে বলা যায়, খাদ্যশস্য উৎপাদন হইল জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। সেখানে তামাক চাষকে অগ্রাধিকার দিয়া রবি শস্য চাষীদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নহে। অতএব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই সংকট নিরসন করিতে।