মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনপদে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষও আগ্রহভরে অপেক্ষা করছেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একজন যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য। এই প্রেক্ষাপটে ৩০০ নং সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি বিকেলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের জিনামেজু অনাথ আশ্রম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ধানের শীষ প্রতীকের এক আবেগঘন উঠান বৈঠক। পাহাড়ঘেরা শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে আয়োজিত এই বৈঠকে স্থানীয় নারী-পুরুষ, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। উপস্থিত মানুষের চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা।
উঠান বৈঠকে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক লামা পৌরসভার মেয়র আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি অতীতেও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
আমির হোসেন আমু বলেন,
“এই অঞ্চলের মানুষ আজও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় পিছিয়ে রয়েছে। ধানের শীষের কাণ্ডারী, সংসদ সদস্য প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি সংসদে গিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও ন্যায্য দাবির কথা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবেন, এটাই তার প্রধান অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সাচিং প্রু জেরির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে সাচিং প্রু জেরি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলেন। দুর্গম এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তার ভূমিকা আজও মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
জিনামেজু অনাথ আশ্রম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উঠান বৈঠক কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর সরাসরি সংযোগের এক আবেগঘন উপলক্ষ্যে পরিণত হয়। এ সময় অনেকেই নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা প্রার্থীর প্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরেন।
নির্বাচনী এই সময়ে পাহাড়ের নিরিবিলি জনপদে ধানের শীষের প্রচারণা নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে। জিনামেজুর উঠান বৈঠক শেষে সাধারণ মানুষের কণ্ঠে একটাই প্রত্যাশা, পাহাড়ের মানুষের কথা বলার মতো একজন প্রতিনিধিকে তারা আবারও জাতীয় সংসদে দেখতে চান।