জাকিয়া বেগম বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। অলিগলি, হাট-বাজার এখন নির্বাচনী পোস্টারে সয়লাব। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে এখন ভোটারদের মুখে মুখে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে তিনি এখন ত্রিশালের রাজনীতির মাঠে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
সরেজমিনে ত্রিশাল পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আনোয়ার সাদাতকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ। সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেকের পুত্র হওয়ায় পারিবারিকভাবেই তার একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে কেবল পারিবারিক পরিচিতি নয়, বরং উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং করোনাকালীন সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় তার ব্যক্তিগত ইমেজ এখন তুঙ্গে।
উপজেলার ধানীখোলা বাজারের একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, "আমরা দল বুঝি না, আমরা বুঝি যে বিপদে আপদে আমাদের পাশে থাকে। সাদাত চেয়ারম্যান সব সময় আমাদের খোঁজ রেখেছেন, তাই এবার কাপ-পিরিচেই ভোট দেব।"
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, দলীয় মনোনয়নের চেয়ে এবার ত্রিশালের মানুষ ব্যক্তি ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের তৃণমূলের একটি বড় অংশ আনোয়ার সাদাতের সমর্থনে গোপনে ও প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো। ডিজিটাল প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে তিনি তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ত্রিশালকে একটি আধুনিক মডেল শহর গড়ার যে অঙ্গীকার করছেন, তা ভোটারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থনে উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গণসংযোগ করছেন আনোয়ার সাদাত। প্রতিটি পথসভাই রূপ নিচ্ছে জনসমুদ্রে। তার প্রধান শক্তি হলো সাধারণ মানুষ, যারা কোনো বিনিময় ছাড়াই তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন, তবে সাধারণ ভোটারদের মেরুকরণ বলছে-মূল লড়াই হবে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাথেই। বড় দলগুলোর ভোট যদি বিভক্ত হয়, তবে আনোয়ার সাদাতের জয়ের পথ আরও সুগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিশালের আকাশে-বাতাসে এখন কাপ-পিরিচের গুঞ্জন। এই জনজোয়ার শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয় কি না, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ত্রিশালবাসী।
গণসংযোগের এক ফাঁকে আনোয়ার সাদাত বলেন, "আমি পদের জন্য রাজনীতি করি না, আমি ত্রিশালের মানুষের সেবা করতে চাই। জনগণের চাপে এবং তাদের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আমি প্রার্থী হয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কাপ-পিরিচ প্রতীকের বিজয় হবে সাধারণ মানুষের বিজয়।"