দেলোয়ার হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়মানিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই অবস্থা। বিএনপি-জামাতের ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করে দীর্ঘসময় স্কুলটির দিকে কোনো দৃষ্টি দেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ফলে শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল ও সুনাম থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।
পাঁচবিবি উপজেলা শহরের মাত্র ১ কিলোমিটার পশ্চিমে ছোট যমুনা নদীর তীরে আন্তঃউপজেলা সড়ক সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বড়মানিকা উচ্চ বিদ্যালয়। স্থাপনার ৩৫ বছরেও বিদ্যালয়ের ভবনের খুব একটা উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও বসার মতো উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষের সংকট প্রকট। পুরনো টিনশেড ছাউনির ক্লাসরুমগুলো বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, ফলে পাঠদান সম্ভব হয় না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মহসিন আলী মন্ডল জানান, “৬টি টিনের ঘরের মধ্যে ৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, বৃষ্টির দিনে ক্লাস নেওয়া যায় না। ঐচ্ছিক বিষয়গুলো কমনরুম বা গাছতলায় পড়াতে হয়। এটা কোনোভাবেই শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ নয়।”
স্কুলটিতে তিনটি পুরনো পাকা রুম থাকলেও সেগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে একটি অফিস, একটি পাঠাগার এবং একটি সাইন্স ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি জলাশয় থাকায় স্কুল ভবনের মাটির নিচে ক্ষয় হতে শুরু করেছে। এতে ভবনটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধান শিক্ষক মহসিন আলী মন্ডল অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ সরকার আমলে স্থানীয় এমপি সামছুল আলম দুদু বিদ্যালয়টিকে অবজ্ঞা করে আসছেন। স্কুলটির আশপাশে বিএনপি-জামাত সমর্থিত মানুষ বসবাস করায় রাজনৈতিক কারণে বারবার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ভবনের জন্য বরাদ্দ এলেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, “এই স্কুলের তুলনায় অনেক কম শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়েও বহুতল ভবন হয়েছে। অথচ বড়মানিকায় এখনও আধুনিক ভবনের মুখ দেখেনি। এটি চরম বৈষম্যের উদাহরণ।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, নিরপেক্ষ সরকার পরিচালিত বর্তমান সময়ে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থার অবসান হওয়া উচিত। তারা দ্রুত আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন।
বড়মানিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক রঙের বলি না করে জরুরি ভিত্তিতে উন্নয়নের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।