মোঃ হাসিবুর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধি নড়াইল।
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলারধীন যোগানিয়া বাজার মোড় এলাকায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাটের গাড়িবহরে গত ১৮/০৫/২০২৫ ইং রবিবার দুপুরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাংবাদিকও রয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় আহতদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুল লতিফ সম্রাটকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘোড়াদৌড় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলা হয়েছে।
আব্দুল লতিফ সম্রাট ঢাকা থেকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বেনদারচর সোয়াবিল এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গোপালগঞ্জ হয়ে যোগানিয়া বাজার মোড় এলাকায় পৌঁছালে দুপুরের দিকে তার গাড়ি ও মোটরসাইকেল বহরে অতর্কিত হামলার চালায়।
ভূক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ করেই লাঠিসোঁটা, রড ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে বহরটির ওপর হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাগজপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই হামলায় সাংবাদিকরা ও আহত সহ মটর সাইকেল ভেঙ্গে ক্ষতি গ্রস্থের শিকার হয়।
হামলাকারীরা বিএনপির জেলা সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগঃ
কালিয়া পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর কমিশনার রবিউল ইসলাম রবি বলেন, “সম্রাট সাহেব ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হয়ে বেন্দারচর সোয়াবিল এলাকায় যাচ্ছিলেন। আমরা চাপাইল ব্রিজ থেকে তাকে গ্রহণ করে একসঙ্গে যাচ্ছিলাম। পথে যোগানিয়া বাজার মোড়ে তার বহরের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।”
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলাম না। একটি ক্রীড়া আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছিলাম। এই হামলা রাজনৈতিক সহিংসতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। তারা সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করেছে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন।
নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুন্সি আসাবুর রহমান আরাফাত বলেন, “এই হামলার পেছনে রয়েছেন বিশ্বাস জাহাঙ্গীরের ইন্ধন , মিঠু বিশ্বাস, আবুল খাঁ এবং নড়াগাতী থানা বিএনপির সুবিধাবাদীর একটি অংশ।
পুলিশের অবস্থানঃ
বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও নিরব ছিল। এ বিষয়ে কালিয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, “পুলিশ যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ করত, তাহলে এত বড় ক্ষতি হতো না।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আশিকুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে কালিয়া প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ইউসুফ এবং পৌর বিএনপির সহসভাপতি রবিউল ইসলাম রবি। এছাড়া বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ইউসুফ বলেন, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ঘটনার পর কালিয়া ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই হামলার বিষয়ে নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।